মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৬

একান্ত সাক্ষাতকারে গল্পকার আমির ইশতিয়াক

রঙধনু ১. কতদিন যাবৎ লেখালেখি করছেন?
আমির ইশতিয়াক: ১৯৯৭ সালে নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত থাকালীন সময় থেকে আমার লেখালেখির হাতেখড়ি। সেই থেকে আজ অবধি অবিরাম লিখেই যাচ্ছি। কখনো থেমে থেমে আবার কখনো একনাগারে। লেখতে লেখতে নাকি লেখক হওয়া যায়। তাই অবিরত লিখছি। জানিনা কতদুর যেতে পারব। আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ২০০০ সনের জুন মাসে মাসিক চিকিৎসা সাময়িকীতে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন. মাসিক ম্যাগাজিন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-কম্পিউটার ও চিকিৎসা বিষয়ক মাসিক পত্রিকা, সাধারণ জ্ঞান ভিত্তিক মাসিক পত্রিকা, দৈনিক পত্রিকা, কিশোর পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, ব্লগ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি করে আসছি।

রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

সিয়ামের নীল ঘুড়ি

গ্রীষ্মের ছুটিতে দাদার বাড়িতে বেড়াতে আসল সিয়াম। সে বিকেল বেলা মাঠের ধারে খেলা করতে গেল। তখন তার চোখের সামনে ভেসে উঠল নাটাই হাতে বিভিন্ন

শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

পুতুলের বিয়ে

সুমি তার আব্বুকে বলছে, আব্বু আমি আমার পুতুলের বিয়ে দিব। 
সুমির বাবা বললো, তাই নাকি! কার পুতুলের সাথে?
- রিমার পুতুলের সাথে।
- এখন আমাকে কি করতে হবে?
- রিমার বান্ধবী সবাই বরযাত্রী নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসবে। তাদেরকে আয়োজন করে খাওয়াতে হবে।
- ঠিক আছে। তুমি আমার আদরের মেয়ে তোমার কথা কি ফেলতে পারি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

আনিকার কবুতর

সাড়ে তিন বছরের মেয়ে আনিকা। তার পুরো নাম আফরিন সুলতানা আনিকা।  আব্বু-আম্মু আদর করে ডাকে আনিকা। এই বয়সেই পোষা প্রাণীর প্রতি তার অনেক দরদ। এইতো কিছু দিন আগে আনিকার আব্বু তার নামে আকিকা দেয়ার জন্য একটি খাসী কিনে আনলেন। খাসী দেখে আনিকা খুব খুশি হয়। এই খাসী সে পালবে। কিছুতেই এই খাসী জবেহ করতে দিবে না। রাতে ঘুমানোর আগে আনিকা তার আব্বুকে বলছে, আব্বু আমার খাসী তুমি জবেহ করবে না। আমি তাকে জবেহ দিব না। যদি তুমি জবেহ কর তাহলে কিন্তু আমি খুব কান্না করব।

রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৫

ফেরা

এক.
১৯৯৫ সাল।
শীতের সকাল। চারদিকে কুয়াশা। কুয়াশার জন্য দূরের লোকজন তেমন দেখা যায় না। এখনও সূর্য উঠেনি। জসিম উদ্দিন রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছেন। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন ভোরে উঠে তিনি হাঁটেন। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তার কাছে মনে হল কোথাও একজন কাঁদছে। কয়েক কদম যাওয়ার পর দেখলো আট-নয় বছরের একটি মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার দিকে এগিয়ে আসছে। জসিম উদ্দিন যতই সামনে যাচ্ছে ততই মেয়েটি সামনে আসছে। মেয়েটি ইতোমধ্যে জসিম উদ্দিনের কাছাকাছি চলে আসলো। জসিম উদ্দিন কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মেয়েটি তাকে ঝাপটে ধরে বললো, আংকেল আমার আব্বু আমাকে রেখে চলে গেছে। আব্বুকে খুঁজে দেন। বলেই সে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। 

শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫

অনাথ শিশু

কনকনে এই শীতের মাঝে
হাড় কাঁপানো সকাল-সাঁঝে,
পাই না কারো একটু আদর
কে দেবে গো একটি চাদর?

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫

নালিশ


মনিষার বয়স এখন তিন বছর। সে এখন কথা বলতে পারে। খেলতে পারে। রাগ করতে পারে। বায়না ধরতে পারে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ানোর সময় অনেক বায়না ধরে। কোন কিছুতেই ভুলিয়ে তাকে খাওয়ানো যায় না। তাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য রীতিমত তার সাথে যুদ্ধ করতে হয়। তাকে খাবার খাওয়ানো যে কত কঠিন তা মনিষার মা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। কত রূপকথার গল্প ও মিথ্যার ভা-ার সাজিয়ে, ভয় দেখিয়ে তাকে খাওয়াতে হয় তা বলা মুশকিল। কখনো এক লোকমা মুখে দিলে এ রুম ছেড়ে অন্য রুমে চলে যায়। এ নিয়ে তার মাকে সারাক্ষণ তার পিছনে দৌঁড়াতে হয়।

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৫

মুক্তি

সোহেল সাবিনাকে অনেক ভালোবেসেছিল। তারপরও সোহেল সাবিনাকে তার জীবন থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া কি আর করার ছিল তার। সে সোহেলের জীবনটাকে তিলে তিলে শেষ করে ফেলেছে। ওকে নিয়ে সারাক্ষণ আতংকে থাকত সোহেল। কখন জানি কি অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। সোহেল যতই চাচ্ছিল সাবিনার জীবন থেকে মুক্তি পেতে সাবিনা ততই তার ঘাড়ে চেপে বসেছে। তাইতো সোহেল নিরূপায় হয়ে আজ সাবিনাকে চিরজীবনের জন্য মুক্তি দিল। সে আর আসবে না কোন দিন সোহেলের জীবনে। 

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

মর্জিনা বিবি

রাত আনুমানিক বারোটা। খালেদার চোখে ঘুম নেই। মনটা ছট ফট করছে। ইচ্ছে হল বাইরে বের হতে। রুম হতে বারান্দায় আসতেই দেখে কাজের মহিলা মর্জিনা বিবি বারান্দায় বসে আছে। তার চোখে পানি। খালেদা মর্জিনা বিবির দিকে এগিয়ে গেল। 
- আচ্ছা দিদি আপনি এখনও ঘুমান্নি! 

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

লাল গরু

ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। বড় ভাই কামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর জামাল উদ্দিন কোন ঈদে কোরবানি দিতে পারেনি। আজ থেকে পনের বছর পূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন কামাল উদ্দিন। জামাল উদ্দিন ভাবছে এবার নিজের পোষা লাল গরুটা বিক্রি করে কোরবানিতে শরিক হবে।